বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞা অনুযায়ী জীবনের ১০-১৯ বৎসর সময়টাই হলো কৈশোর বা বয়ঃসন্ধিকাল। শৈশব ও যৌবনের এই সন্ধিক্ষণে ছেলেমেয়েদের শারিরীক ও মানসিক পরিবর্তন হয় ও তারা প্রজননক্ষম হয়।
বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্নমালা
বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্নমালা (বয়ঃসন্ধিকাল ও পরিবর্তন)
প্রশ্নের উপর ক্লিক করুন, প্রশ্নের নিচে উত্তর দেখতে পাবেন ।
জানতে চাই

জীবনের কোন সময়কে বয়ঃসন্ধিকাল বা কৈশোর বলে?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞা অনুযায়ী জীবনের ১০-১৯ বৎসর সময়টাই হলো কৈশোর বা বয়ঃসন্ধিকাল। শৈশব ও যৌবনের এই সন্ধিক্ষণে ছেলেমেয়েদের শারিরীক ও মানসিক পরিবর্তন হয় ও তারা প্রজননক্ষম হয়।

কিশোর-কিশোরী কারা?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞা অনুযায়ী ১০-১৯ বৎসর বয়সী ছেলে-মেয়েদের কিশোর-কিশোরী বলা হয়।

বয়ঃসন্ধিকালের গুরুত্ব কি?

বয়ঃসন্ধিকালে জীবনের ব্যাপক শারিরীক ও মানসিক পরিবর্তন হয়। তাই সারা জীবনের সুস্থতা অনেকাংশেই নির্ভর করে এই সময়ে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন করলে। এই সময়ে শরীর দ্রুত বৃদ্ধি পায়। মেয়েদের প্রতিমাসে ঋতুস্রাব শুরু হয়। তাই এ সময়ে পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্য গ্রহণ করা প্রয়োজন। শারিরীক পরিবর্তনের ফলে (ছেলেদের দাড়ি-গোফ গজানো ও মেয়েদের স্তনের আকার বৃদ্ধি) এ সময়ে ছেলেমেয়েরা বড়দের সামনে আসতে বা এ ব্যাপারে বড়দের কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে লজ্জা পায়। উপরন্ত এ সময়ে তাদের মনে যৌনতা নিয়ে কৌতুহল বা যৌনবাসনার উদ্দেক হতে পারে।তাই তারা সমবয়সী বন্ধু-বান্ধব বা বাজার থেকে চটি বই কিনে কৌতুহল মেটাতে চায়। কিন্তু এসব উৎস থেকে তারা র্নিভুল তথ্য পায় না বরং অধিকাংশ সময়ই প্রজনন ও যৌন স্বাস্থ্য বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য পেয়ে থাকে। তাই বয়ঃসন্ধিকালীন সময়ে সঠিক তথ্য ও ভাল বন্ধুর সঙ্গ ও পরামর্শ প্রয়োজন।

বয়ঃসন্ধিকালে কি কি শারিরীক পরিবর্তন হয়?

ছেলেদের শারিরীক পরিবর্তনগুলো হলো-
১. উচ্চতা বাড়ে;
২. অস্থি ও পেশী শক্ত হয় ও বৃদ্ধি পায়;
৩. ওজন বাড়ে;
৪. বুক ও কাঁধ চওড়া হয়;
৫. হালকা গোঁফের রেখা দেখা দেয় ও দাড়ি গজায়;
৬. ব্রন উঠে;
৭. লিঙ্গের চারপাশে ও বগলের নীচে চুল গজায়;
৮. গলার স্বর ভেঙ্গে যায় ও পরে ভারী হয়;
৯. অন্ডকোষ ও লিঙ্গের আকার বৃদ্ধি পায়;
১০. মাঝে মাঝে ঘুমের মধ্যে বীর্যপাত হয়ে থাকে;

মেয়েদের শারিরীক পরিবর্তনগুলো হলো-
১. উচ্চতা বাড়ে;
২. ওজন বাড়ে;
৩. স্তনের আকার বড় হয়;
৪. ঋতুস্রাব শুরু হয়;
৫. শরীরের বিভিন্ন স্থানে মেদ জমে;
৬. ব্রন ওঠে;
৭. যোনির আশেপাশে ও বগলের নীচে চুল গজায়;

বয়ঃসন্ধিকালে কি কি মানসিক পরিবর্তন দেখা যায়?

বয়ঃসন্ধিকালে মানসিক পরিবর্তনগুলো হলো-
১. ছেলেমেয়েরা নিজেকে প্রাপ্তবয়ষ্ক ভাবতে শুরু করে এবং অন্যদের কাছ থেকে সে অনুযায়ী আচরন আশা করে;
২. স্বাধীন ভাবে চলাফেরা করতে চায়;
৩. বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গ ভালবাসে ও তাদের উপর নির্ভর করে;
৪. আর্থিক ভাবে স্ব-নির্ভর হতে চায়;
৫. আত্মসচেতনতা বৃদ্ধি পায় ও আত্মকেন্দ্রিক হয়;
৬. নিজেকে আকর্ষনীয় করে তুলতে চায়;
৭. নিজের সম্পর্কে অন্যদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে ভাবনা শুরু হয়;
৮. কৌতুহল বাড়ে ও যৌনতা সম্পর্কে আগ্রহ বাড়ে;
৯. লজ্জা ভাব বেড়ে যায়;
১০. মানসিক ভাবে অস্থির থাকে এবং যে কোন ঝুঁকি নিতে প্রস্তত্ত থাকে;

ঋতুস্রাব (মাসিক) কি?

মেয়েদের প্রতিমাসে যোনিপথ দিয়ে যে রক্তস্রাব হয় তাকে ঋতুস্রাব বা মাসিক বলে। ঋতুস্রাব সাধারণত ১০ থেকে ১৪ বৎসের বয়সের মধ্যে শুরু হয় এবং ৪৫-৫০ বৎসর পর্যন্ত প্রতিমাসে একবার হতে থাকে। প্রতিমাসেই ৩ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত রক্তস্রাব হয়ে থাকে। প্রথম ২/৩ দিন একটু বেশী এবং পরবর্তীতে দিনগুলিতে কম রক্তস্রাব হয়ে থাকে।

ঋতুস্রাব (মাসিক) কেন হয়?

মেয়েদের শরীরে জরায়ুর দু’পাশে দু’টি ডিম্বাশয় বা ওভারী থাকে। প্রতিটি ডিম্বাশয়ে অনেক ডিম্বানু থাকে যেগুলো থেকে প্রতি মাসে একটি ডিম্বানু পরিপক্ক হয়। একই সাথে ডিম্বাশয় থেকে এস্টোজেন ও প্রজেস্টোরন নামে দু’টি হরমোন নিঃসৃত হয়। একজন নারী ততদিন সন্তান ধারণে সক্ষম থাকেন যতদিন প্রতিমাসে ডিম পরিপক্ক হয় এবং এই দু’টি হরমোন নিঃসৃত হয়। নারী পুরুষের যৌনমিলনের ফলে এই পরিপক্ক ডিম্বানু পুরুষের শুক্রাণুর সাথে মিলিত হয় এবং ভ্রুণ হিসাবে জরায়ুর দেয়ালে গ্রোথিত হয় ও এস্টোজেন ও প্রজেস্টোরন হরমোন ও অন্যান্য হরমোনের প্রভাবে মানবশিশুতে রুপান্তরিত হয়। নারী পুরুষের যৌনমিলন না হলে বা শুক্রাণু-ডিম্বানুর সাথে মিলিত না হতে পারলে ডিম্বাণু নষ্ট হয়ে যায় এবং জরায়ুর ভিতরের দেয়ালের বাইরের দু’টি আবরণ ক্ষয় হয়ে ছোট ছোট রক্তনালীগুলো থেকে রক্ত যোনিপথ দিয়ে বের হয়ে আসে।

ঋতুস্রাব (মাসিক) এর সময় কি করণীয়?

১. মাসিকের রক্ত যেন কাপড়ে লেগে না যায় সেজন্য স্যানিটারী ন্যাপকিন (যদি কেনা না যায় তবে পরিষ্কার পাতলা কাপড় ভাঁজ করে) ব্যবহার করতে হবে;
২. রক্তস্রাবের পরিমান অনুযায়ী স্যানিটারী ন্যাপকিন বা কাপড় দিনে অন্ততঃপক্ষে ২ থেকে ৬ বার বদলাতে হবে এবং যথাস্থানে ফেলতে হবে। কাপড় ব্যবহার করলে রৌদ্রে শুকিয়ে পরবর্তীতে ব্যবহারের জন্য পরিষ্কার স্থানে সংরক্ষণ করতে হবে;
৩. এ সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে এবং নিয়মিত গোসল করতে হবে;
৪. পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হবে;
৫. প্রতিদিনের নিয়মিত কাজকর্ম করতে হবে, যেমন স্কুলে যাওয়া, গৃহস্থলী কাজ ইত্যাদি;

অস্বাভাবিক ঋতুস্রাব (মাসিক) কি?

নিম্নের যে কোন একটি বা একাধিক উপসর্গ হলে তাকে অস্বাভাবিক মাসিক বলবো। উপসর্গগুলো হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন।
১. অতিরিক্ত রক্তস্রাব হওয়া (প্রতি ২ ঘন্টায় স্যানিটারী ন্যাপকিন বদলের প্রয়োজন হলে);
২. একই মাসে একাধিক বার ঋতুস্রাব হওয়া;
৩. ৭ দিনের বেশী সময় ধরে ঋতুস্রাব হওয়া;
৪. দুই ঋতুস্রাবের মধ্যবর্তী সময়ে ফোটা ফোটা রক্তস্রাব হওয়া;
৫. কালো চাকা বা জমাট বাধা রক্তস্রাব হওয়া;
৬. ঋতুস্রাবের সময় তলপেটে প্রচন্ড ব্যথা হওয়া;
৭. দুর্গন্ধ যুক্ত স্রাব হওয়া ও সাথে জ্বর থাকা;

স্বপ্নদোষ কি?

বয়ঃসন্ধিকালে হরমোনের প্রভাবে ছেলেদের অন্ডকোষের ভিতরে অবস্থিত টেস্টিস এ প্রতিনিয়ত বীর্য তৈরী হয় এবং তা জমা হতে থাকে। এই বীর্য জমা হতে হতে স্বাভাবিক ভাবেই ঘুমের মধ্যে উত্তেজনাকর স্বপ্ন দেখলে লিঙ্গ দিয়ে বের হয়ে আসে। একে স্বপ্নদোষ বলে। স্বপ্নদোষ কোন দোষ না, এটা ছেলেদের বয়ঃসন্ধিকালীন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া যা কৈশোরে শুরু হয়ে অমৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

স্বপ্নদোষ হলে কি করতে হবে?

স্বপ্নদোষ হলে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। শরীর থেকে বীর্য মুছে কাপড় বদলে ফেলতে হবে। সম্ভব হলে গোসল করে পরিষ্কার কাপড় পরে নিতে হবে।

কোথাথেকে কিশোর-কিশোরীরা নিঃসংকোচে বয়ঃসন্ধিকালীন সেবা নিতে পারে?

কিশোর-কিশোরীদের শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি ও বিকাশকে সঠিকভাবে সহায়তা করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের আওতাধীন সেবাকেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীদের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানের লক্ষ্যে কৈশোর-বান্ধব স্বাস্থ্যসেবা কর্নার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। যেখানে কিশোর-কিশোরীগণ স্বচ্ছন্দে এবং নিঃসংকোচে তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সেবাগুলি গ্রহণ করতে পারবে।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের আওতাধীন সেবাকেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে কি রকম সেবা দেয়া হয়ে থাকে বা পদ্ধতি গুলো কি কি?

  • অসুস্থতা কিংবা কিশোর-কিশোরীদের শঙ্কিত করে বা তাদের জীবনকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে, এমনকি কখনও কখনও কিশোর-কিশোরীরা আতœহত্যার পথ বেছে নেয়, অথবা কোন দীর্ঘস্থায়ী রোগ কিম্বা রোগের জটিলতা সৃষ্টি করে যা তাদের প্রতিবন্ধীত্বের মধ্যে ফেলে দিতে পারে এমন অবস্থার প্রতিরোধ এবং প্রতিকার করার জন্য চিকিৎসা ও পরামর্শ দেয়া।

  • যারা শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য উদ্বিগ্ন তাদের প্রয়োজনীয় মানসিক সহায়তা প্রদান ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে শারীরিক সুস্থ্যতার সেবা ও সহায়তা প্রদান করা।

  • কিশোর-কিশোরীরা যখন কোন স্বাস্থ্যগত সমস্যার মধ্যে থাকে এবং সেই সমস্যা থেকে মুক্ত হতে চায় তখন তাদের সাথে সময় নিয়ে কথা বলা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা।

  • অন্যান্য সেবার সাথে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা এবং প্রয়োজনে সঠিক সময়ে সঠিক সেবাদানকারীর কাছে রেফার করা।

  • কৈশোর-বান্ধব সেবার বিশেষত্ব হচ্ছে- এখানে কিশোর কিশোরীদের জন্য এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করা হয় যেখানে তারা স্বচ্ছন্দে ও মন খুলে সেবাদানকারীকে তাদের সমস্যার কথা বলতে পারে। সেবাপ্রদানকারীগণও তাদের সাথে সহানুভুতিশীল আচরন এবং প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রদত্ত গাইডলাইন ও ধাপ অনুসরন করেন।



কিশোর কিশোরীদের স্বাস্থ্য নিয়ে দৈনিক পত্রিকার প্রতিবেদন- 01
কিশোর কিশোরীদের স্বাস্থ্য নিয়ে দৈনিক পত্রিকার প্রতিবেদন- 02




কিশোর কিশোরীদের নিয়ে অন্যান্য লিংক



কোন প্রশ্ন করতে চাইলে আমাদের লিখতে পারেন ।
আমরা আপনার পরিচয় গোপন রাখব ।

বার্তাটি ইংরেজীতে বা বাংলা ইউনিকেডে লিখুন



* Require Field

Name* :
E-mail* :
Phone :
Message* :
 
হোম / নীড়পাতা | বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্নমালা | যোগাযোগ | ওয়েব মেইল
Courtesy :
United Nations Population Fund